সাইদ হাসান মেহেরপুর/
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি গ্রহণ না করায় মেহেরপুরে নাগরিক সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে বিকেলে ‘নাগরিক উদ্যোগ’সহ নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ কর্মসূচি না থাকাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছ থেকেই এমন একটি দিবসে নীরবতা প্রত্যাশিত নয়। তিনি মনে করেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য।
তিনি আরও বলেন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্যগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে এই ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মুজিবনগর সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘অস্থায়ী সরকার’ শব্দটি মূলত তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রচলিত নাম। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে এ সরকার গঠিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্মৃতি কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আগেই সকালে মুজিবনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আহসান আলী খাঁন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভাপতি মোখলেছুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকানন—বর্তমান মুজিবনগরে—যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপিত হয়। তবে এবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় কোনো আয়োজন না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।



