
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল – চলতি বছরের মধ্যেই কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই কাউন্সিলের মাধ্যমেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে, কাউন্সিলের পর তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান।
মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিলের সঠিক দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরেই তা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মূল কাউন্সিলের আগে দলের তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নতুন করে কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে এবং দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার শারীরিক অসুস্থতা এবং বয়সের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছি এবং বর্তমানে যথেষ্ট ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে আমি অবসর নিতে চাই। রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো প্রত্যাশা তার কখনো ছিল না। তিনি বলেন, আমি বর্তমানে যে অবস্থানে এসেছি তা ভাগ্যের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
নিজের কাজ সততার সঙ্গে করে যাওয়াই ছিল আমার মূল লক্ষ্য, পদের প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউনসিল তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছিল।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
এনএন/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬





