
সকালে অফিসে এসে চেয়ারে বসা, তারপর টানা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে কাটানো ঘণ্টা পর ঘণ্টা। অফিস শেষে বাড়ি ফিরে আবারও সোফায় বসে মোবাইল কিংবা টেলিভিশনের সামনে সময় কাটানো—আধুনিক নগরজীবনের এই পরিচিত রুটিনেই লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। দিনের সিংহভাগ সময় এক জায়গায় বসে কাটানো এবং হাঁটাচলা বা কায়িক পরিশ্রম না করার অভ্যাস কেবল আপনার কোমর কিংবা ওজন বাড়ায় না, অলক্ষেই ধ্বংস করে দিতে পারে জীবনরক্ষাকারী অঙ্গ ‘কিডনি’।
চিকিৎসকদের মতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা একটানা বসে থাকার কুফল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরাসরি কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
যেভাবে একটানা বসে থাকা কিডনির ক্ষতি করে
দীর্ঘক্ষণ টানা বসে থাকলে শরীরে শক্তি খরচ একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাচলা না থাকায় দ্রুত ওজন বাড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত ওজনের হাত ধরে শরীরে একে একে দানা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস (রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা)।
কিডনির কাজ হলো শরীরের রক্ত ছেঁকে বর্জ্য বের করে দেওয়া। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও শক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ফিল্টার করার প্রক্রিয়াকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে অকেজো হতে থাকে কিডনি।
রোগ নির্ণয়ে কেন দেরি হয়?
কিডনি রোগের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—শুরুর দিকে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। রোগী যখন বুঝতে পারেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
তাই যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন কিংবা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে ক্রিয়েটিনিনসহ কিডনির জরুরি পরীক্ষা করানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
ডেস্ক জব করেও যেভাবে কিডনি সুরক্ষিত রাখবেন
যাদের কাজের ধরনই বসে থাকা, তারা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়াতে পারেন:
মাইক্রো-ব্রেক নিন: প্রতি ৪৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠুন। ৩-৪ মিনিট অফিসে হেঁটে আসুন বা দাঁড়িয়ে শরীর স্ট্রেচ করুন।
হাঁটার অভ্যাস: মোবাইলে কথা বলার সময় দাঁড়িয়ে বা রুমের মধ্যে হেঁটে হেঁটে কথা বলুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
বাড়ি ফিরে নিষ্ক্রিয় থাকবেন না: সারাদিন ডেস্কে কাটানোর পর বাড়ি ফিরে সোফা বা বিছানায় অলস সময় না কাটিয়ে হালকা হাঁটাচলা করুন।
পর্যাপ্ত পানি ও ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা করুন, সুষম খাবার খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা, রক্তচাপ-শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হেলদি লাইফস্টাইলই পারে আপনার কিডনিকে আজীবন সুস্থ রাখতে।
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেই কি কিডনি নষ্ট হয়?
না। শুধু বসে থাকাকে সরাসরি কিডনি নষ্ট হওয়ার একক কারণ বলা ঠিক নয়। তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ওজন, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মতো কিডনি-ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কিডনি রোগের শুরুতে কি কোনও লক্ষণ থাকে?
অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক কিডনি রোগে স্পষ্ট কোনও উপসর্গ থাকে না। তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি পরীক্ষা করতে কোন কোন টেস্ট করা হয়?
রক্তে ক্রিয়েটিনিন থেকে eGFR এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
কারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে বেশি?
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি।
ডেস্ক জব করলে কীভাবে সক্রিয় থাকা যায়?
নিয়মিত চেয়ার থেকে উঠে হাঁটা বা স্ট্রেচিং করা এবং নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সপ্তাহজুড়ে শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা যেতে পারে।


