যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবৈধভাবে পরিচালিত পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটালের পরিবেশগত লাইসেন্স নেই। একই সঙ্গে নেই ফায়ার লাইসেন্স। ফায়ার লাইসেন্স না থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগ পপুলার হসপিটালের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমানের ০১৭১৮৬৮৬৯৯৮ ও ০১৯০১০২৪৭২৮ নম্বরে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হাসপাতালটিতে সুষ্টু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, ডায়রিয়া, কলেরা, হেপাটাইটিস-বি ও এইচআইভির মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংক্রামক বর্জ্য এবং ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুই বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে এসব রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
অপরিশোধিত ও খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বর্জ্য থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ওষুধের অবশিষ্টাংশ মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করতে পারে।
হাসপাতালের বর্জ্য বা চিকিৎসা বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট আইন ও নিয়মাবলি রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮। এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর অধীনেও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী হাসপাতালের বর্জ্য তার ধরন অনুযায়ী আলাদা আলাদা পাত্র বা বিনে রাখতে হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কালার কোড বা রঙিন পাত্র ব্যবহার করার বিধান রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র (ECC) ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটালের এ ধরনের কোনো লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

যদি কোনো হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান বিধিমালা ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায়ও জনজীবনের জন্য বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর মতো অবহেলার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে।
যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক আতাউর রহমান জানান, “আমরা দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অভিযোগ রয়েছে, পপুলার হসপিটালের পয়োনিষ্কাশনের পানি ভৈরব নদে ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর জায়গা দখল করে পপুলার হসপিটালের পাওয়ার স্টেশন বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “নদীর জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দ্রুতই অভিযান চালাব।”
এদিকে, আন্ডারগ্রাউন্ডে ক্লিনিক পরিচালনা নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পপুলার হসপিটাল কর্তৃপক্ষ এসব নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পৌরসভার রাস্তার জায়গা দখল করে হাসপাতালের সামনের অংশ অবৈধভাবে বর্ধিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোকলেসুর রহমান জানান, “রাস্তা মাপার পর রাস্তার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়ে থাকলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।”
এ ছাড়া পপুলার হসপিটালের দোতলায় রোগী চিকিৎসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এসব কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য পপুলার হসপিটালে নাসির নামে এক ব্যক্তিকে ‘মাসেলম্যান’ হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

