বাঁশখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
তিনি বলেছেন, হুমকি, উসকানি কিংবা অশালীন বক্তব্যের মাধ্যমে বাঁশখালীর শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি রাজনীতি করে। তাই বাঁশখালীর রাজনৈতিক পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, আজ তাদের কেউ কেউ বিভিন্নভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো ধরনের হুমকি, উসকানি কিংবা অশালীন বক্তব্যের মাধ্যমে বাঁশখালীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ওপর কোনো ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা কাম্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বিব্রত বা চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত নয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে এলে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং যথাযথ সম্মান দিয়ে মঞ্চে স্থান দিয়েছি। সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেকের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি। অথচ আপনাদের আমির যখন বাঁশখালীতে এসেছিলেন, তখন আমাদের সঙ্গে একটি ফোনে যোগাযোগও করা হয়নি। তারপরও আমরা কোনো বিরোধ সৃষ্টি করতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে কাজ করতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে বাঁশখালীর মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, একদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে তদবির করবেন, অন্যদিকে সরকারকে ফেলে দেওয়ার কথা বলবেন-এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান কাম্য নয়। জনগণের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশের আগে বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন।
বিকেল ৫টার দিকে মিছিলগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে। পরে মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার দারোগা বাজার এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার মুহাম্মদ লোকমানের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুস সবুর, জেলা জিপি অ্যাডভোকেট কাশেম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য দেলোয়ার আজিম, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিন, চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দীন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম আস্করি, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট লায়ন নাছির উদ্দীন, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম আইয়ুব, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম আবদুল হক ও অধ্যাপক মুবিনুর রহমান চৌধুরী,জাহেদুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল ও ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশ থেকে বাঁশখালীর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।

