খাল খননে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওযা হবে : ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

খাল খননে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওযা হবে : ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

রেজাউল করিম মানিক,

রংপুর। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল খননের কিছু অনিয়মের খবর আমরা পাচ্ছি সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার  বিকারে রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় জিয়া খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, খালের দুই পাশের গাছগুলো পরিচর্যার জন্য সামাজিক চুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষ ও নারীদের সঙ্গে এক থেকে দুই কিলোমিটার করে এলাকার গাছের পরিচর্যার জন্য চুক্তি করা হবে। এতে তারা গাছের একটি অংশের সুবিধা পাবেন এবং গাছগুলোর পাহারা ও পরিচর্যার দায়িত্বও তারা নেবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। বর্তমানে খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

জিয়া খাল প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে এই খাল খনন করেছিলেন। এ কারণেই খালটি পরিদর্শনে এসেছি । আগামীতে খালটি পুনঃখনন করে পুনরুদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি খালের পাশে নগরবাসীর ঘোরাফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে।

এর আগে মন্ত্রী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে থাকা ১০টি আইসিইউ বেডের সঙ্গে আরও ১০টি নতুন আইসিইউ বেড চালু করা হবে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুরো হাসপাতালকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল বাড়ানো হবে, যাতে রোগীদের সেবার মান আরও উন্নত হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। হাসপাতালে লাশ পরিবহনকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। কতগুলো অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তার তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা থাকবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষিত রাখতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যে কেউ সেখানে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, রংপুর মেডিকেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্স ও স্টাফদের জন্য আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা করা হবে। রোগীর সঙ্গে শুধুমাত্র একজন স্বজন থাকার ব্যবস্থা করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের উন্নয়নে আরও বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ সময় রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এমডিসি, জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Explore More Districts