সরকারকে ‘চাপে’ রাখতে চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সরকারকে ‘চাপে’ রাখতে চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদচ্যুত করার বিষয়ে কিছুদিন আগে জোরালো দাবি তুলেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। দাবি পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারকে সময়ও বেঁধে দিয়েছিল তারা। এ বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ কেন নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকে।

সমালোচনা ও কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, বিষয়টি এমন নয় জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি সরকারে থাকায় অনেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সরকারের অংশ বলে মনে করছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কেউ কেউ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যক্রমকে ‘কিংস পার্টি’ গঠনের তৎপরতা বলে সন্দেহ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি দুটি স্বতন্ত্র সত্তা, কোনোভাবেই তারা সরকারের অংশ নয়। এই পার্থক্যরেখাটা পরিষ্কার করতে চাইছেন তাঁরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই তাদের সব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংগঠনের সক্রিয় একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্ধভাবে সরকারকে সমর্থন করলে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে জনগণের কাছে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই সরকারের সবকিছুতে আমরা অন্ধ সমর্থন দেব না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা প্রথম আলোকে বলেন, কোনো দ্বন্দ্ব না থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এর কারণ অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার মতামত নিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সরকার তথ্য পরিষ্কারভাবে ‘শেয়ার’ (আদান-প্রদান) করছে না, যা সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

Explore More Districts