রংপুরে চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলাকেটে হত্যা, আতঙ্কিত জেলাবাসী

রংপুরে চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলাকেটে হত্যা, আতঙ্কিত জেলাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার ।
রংপুরে একই পরিবারে চার খুনের ঘটনায় রহস্য এখনো কাটেনি। কেন এই হত্যাকান্ড এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মিলছেনা। অসংগতি আর প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। নির্মম এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের রেশ না কাটতেই এবার এক অটোচালকের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। এবার হত্যার সঙ্গে ছিনতাইকারী জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একের পর এক হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও অপরাধ প্রবণতায় ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে রংপুর। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো জেলাবাসি। সন্ধ্যার পরেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন এমনটা জানাচ্ছেন তারা। হত্যার সাথে থেমে নেই চুরি ডাকাতি ছিনতাই। এ অবস্থার পরিত্রাণ চান উত্তরের এই বিভাগীয় নগরীবাসী।
মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে ১১টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় রংপুর যেন মার্ডারের হটস্পট। এমন পরিস্থিতিতে
চরম উৎকন্ঠাা আর আশঙ্কা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ।

হত্যাকান্ডের কারণ হিসেবে উঠে আসছে মাদেকর সংশ্লিষ্টতা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকার একটি বটগাছের নিচ থেকে অটোচালক মুখলেসুর রহমানের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুখলেসুর রহমান (৬০) গংগাচড়া উপজেলার নবনীদাস গ্রামের মৃ’ত হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোচালক ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায়একটি বটগাছের নিচে নির্জন স্থানে অটোচালক মুখলেেছুর রহমানের নিথরদেহ পড়ে থাকে। স্থানীয় এক যুবক রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ক্রমেই লোকজনের উপস্থিতি বাড়তে ঘাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে হত্যার শিকার অটোচালকের অটোটি ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, অটোচালকে দূরের কোন নির্জন জায়গায় আঘাত করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। আত্মরক্ষার জন্য বাঁচতে গিয়ে সম্ভবত তিনি শান্তিপাড়া এলাকার দিকে এসেছেন। কিন্তু রাত হওয়ায় সবকিছু ফাঁকা ছিল। লোকজন না থাকায় এক পুলিশ সদস্যের বাড়ির নিকটে একটি বটগাাছের নিচে পড়ে থাকা অটোচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর স্থানীয়দের অভিযোগ গজঘন্টা এলাকায় মাদকের উৎপাত বেড়েছে। উঠতি বয়সের অনেক যুবক মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে অপরাধ বাড়ছে। বহিরাগত মাদকসেবিরাও আসা-যাওয়া করেন। এ কারনে মাদকের কারণেই হত্যাকান্ড হতে পারে এমনটাই ধারণা করছেন ঘটনাস্থলে আসা অনেকেই।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা নিহতের ভাতিজা আব্দুল কুদ্দুস জানান, হত্যাকান্ডে নিহত মুখলেসুর রহমান পেশায় অটোচালক ছিলেন। সম্ভবত হত্যাকারীরা অটোছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হত্যা করে অটোটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। তার পরিবারে রোজগারের আর কেউ নেই। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ২০-২৫ বছর থেকে অটো চালিয়ে সংসার চলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের খাবার জোটানোর আর কেউ নেই।স্ত্রী-সন্তানরা খাবে কি।
গংগাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর সবুর
জানান,লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটো উদ্ধার ও ঘাতকদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান রয়েছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts