ইসবগুলের ভুসি (Psyllium husk) আঁশসমৃদ্ধ একটি খাদ্য উপাদান। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য তালিকায় আঁশের পরিমাণ বাড়াতে ইসবগুল খাওয়া হয়। তবে সঠিক নিয়মে খেলে এর উপকার বেশি পাওয়া যায়।
যেভাবে খাবেন
এক গ্লাস পানিতে এক থেকে দুই চা-চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে দ্রুত পান করা যায়। পানিতে মেশানোর পর ইসবগুল দ্রুত ঘন হয়ে যায়। তাই মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করা ভালো। এরপর আরও এক গ্লাস পানি পান করা উচিত।
কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা খাবারের পর ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার খেলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।
পানি পান জরুরি
ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ইসবগুল কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজ না করে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। তাই ইসবগুল খাওয়ার পাশাপাশি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
শুকনো ইসবগুল সরাসরি নয়
ইসবগুলের ভুসি শুকনো অবস্থায় সরাসরি মুখে দিয়ে খাওয়া ঠিক নয়। এতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। সবসময় পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া নিরাপদ।
ওষুধ সেবনে সতর্কতা
যারা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তাদের ইসবগুল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ইসবগুল কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ইসবগুল ও ওষুধ খাওয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো।
পরিমিত পরিমাণে ও পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে ইসবগুল খেলে খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের ব্যথা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেয়ার করুন
