| ৬ October ২০২৬ Tuesday ১১:৪০:৪১ PM | |
নগর প্রতিনিধি:

বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তবে পরিবারের দাবি, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নাজমুলকে হেনস্তা করার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে আদালত ভবন থেকে পড়ে নাজমুলের মৃত্যু হয়।
নাজমুলের নিকটাত্মীয় সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন নাজমুল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ৩ লাখের বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে কলেজে ঝামেলা চলছিল। নাজমুলের বাবা এনামুল হকও কয়েকবার কলেজে যান।
সিরাজুলের অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুলকে তাঁর বাবার সামনে একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার নাজমুলকে কলেজে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।
সিরাজুল বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তিনি কীভাবে আদালত ভবনে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরিবারের ধারণা, নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে ভবনের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তবে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা ট্রেজারি চালানে জমা না দিয়ে নাজমুল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে অডিট আপত্তি থাকায় তাঁকে কলেজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়। একই কারণে সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অধ্যক্ষ জানান, মঙ্গলবার সকালে নাজমুল কলেজে এসেছিলেন। কখন তিনি বের হয়ে যান, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। পরে দুপুরের পর আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে তাঁর আত্মহত্যার খবর পান তাঁরা।
অধ্যক্ষ আরও জানান, পরে তাঁরা জানতে পারেন, কলেজের পেছনের গেটসংলগ্ন ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন নাজমুল। তবে বাড়ির মালিক তাঁকে সেখানে উঠতে দেননি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
