দিনে ৮০০ টাকার কমে সংসার চলে না

দিনে ৮০০ টাকার কমে সংসার চলে না

ময়রাপট্টিতে এখন চারজন

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তার ধারেই বসতে হয় সুকুমারকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা এভাবে কাজ করে এসেছে, আমরাও এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি; কিন্তু রাস্তার পাশে বসে কাজ করতে খারাপ লাগে। অবশ্য কাজের জায়গা দিতে হবে, এমন দাবি কোনো দিন জানাই নাই। আমাদের বাবা-দাদারাও জানাইছে বলে শুনি নাই।’ 

এই পেশায় মানুষও কমছে। সুকুমার বলেন, ‘এখনকার ছেলেরা এ পেশায় আসতে চায় না। এই কাজ শেখার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ দেখি না। তারা কেউ সেলুনে কাজ করে, কেউ মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে কাজ করে। অথচ পাকিস্তান আমলে এই ময়রাপট্টিতেই আমাদের পেশার ২০-২৫ জন বসতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও অনেক দিন পর্যন্ত সংখ্যাটা মোটামুটি ওই রকমই ছিল; কিন্তু দিনে দিনে অনেকে মরে গেছে। এখন আমরা এ পাড়ায় আছি মাত্র চারজন।’ 

নিজের ছেলে এই পেশায় আসুক, তা সুকুমার চান না। ছেলেও বাপ-দাদার পেশায় আসতে চায় না। তাহলে পেশার মানুষ কমে যাওয়ায় আফসোস কেন? সুকুমারের উত্তর—আফসোস নেই। মানুষ কমলেও পেশাটা কোনো দিন একেবারে ফুরিয়ে যাবে না। তাঁর কথায়, ‘আমাদের সম্প্রদায় যত দিন আছে, তত দিন এই পেশা থাকবে। সবাই তো ছেলেদের লেখাপড়া করাতে পারে না, যারা লেখাপড়া করে না, তারা এই পেশাতেই আসবে।’ 

Explore More Districts