| ১৬ June ২০২৬ Tuesday ৭:৫৬:১০ PM | |
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

ঘাটজুড়ে জেলে নৌকার ভিড়। নৌকার গলুইয়ে বৈঠা হাতে জেলে।খোলে রাখা জাল। কোনো নৌকার গলুইয়ের বিপরীত প্রান্তে বসা জেলের স্ত্রী। তাদের আলাপচারিতায় মুখর পুরো এলাকা।
দৃশ্যটি পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো লঞ্চঘাটের।জেলে তালিকায় নাম ওঠাতে জাল-নৌকা নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ঘাটে হাজির হন জেলেরা। আগের তালিকা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এমন পরিকল্পনা করে প্রশাসন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, গলাচিপা পৌর এলাকার জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করতে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এ জন্য জাল ও নৌকা নিয়ে ঘাটে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে গলাচিপা পৌর এলাকার জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একাধিকবার জেলেদের মধ্যে বিবাদও সৃষ্টি হয়। তাই প্রকৃত জেলে শনাক্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।
কমিটিকে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী।সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইউসুফুল ইসলাম, গলাচিপা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আউয়াল এবং গলাচিপার জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক।
তালিকা প্রস্তুতে পৌর এলাকার জেলেদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে এ কমিটি।
পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. বাদল বলেন, ‘তালিকায় নাম দেওয়ার লইগ্যা সকাল থেইক্কা বইয়া আছি। দুপুর হইয়া গ্যাছে। হারাদিনেও এই কাম শ্যাষ হইবে কিনা জানি না। নাম দেওয়ার লইগ্যা আইজগোর কামাই করতে পারি নাই।’
পৌর এলাকার জেলে নাসিমা বলেন, ‘এর আগেও আমার নাম আছিল। আগের তালিকা নাকি বাদ করে দেবে। তাই আজ আইলাম নাম দিতে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুইজনই এক লগে নদীতে জাল দিয়া মাছ ধরি। তাই এক লগেই দুইজন আইছি।’
এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আমরা এর আগে জেলেদের বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে নামের তালিকা করতাম। এবার সরেজমিনে সব জেলেকে জাল-নৌকাসহ থাকতে বলেছি। এতে একদিন তাদের কষ্ট হলেও প্রকৃত জেলেরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।
মৎস্য কর্মকর্তা আরো বলেন, এর আগে পৌর এলাকার তালিকায় প্রথমে ২৬৭ জনের নাম ছিল। পরে আবার ৪৯৩ জনের নাম আসে। জেলেদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত জেলে বাছাই করতেই এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হচ্ছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

