| ২০ October ২০২৬ Tuesday ১:১৩:২৩ AM | |
বরিশাল প্রতিনিধি ॥

জুলাই অভ্যুত্থানের অনেক আগেই (৫জুলাই,২০২৪ ) চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছোট ছেলে আশিক আব্দুল্লাহ কে নিয়ে দেশ ছেড়ে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।
আর অভ্যুত্থান পরবর্তী তার ছেলে বরিশালের সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তার চাচা খোকন সেরনিয়াবাতসহ দেশ ছাড়েন সেরনিয়াবাত পরিবারের সদস্যরা।
তবে একমাত্র দেশেই থেকে যান সেরনিয়াবাত পরিবারের মেঝ ছেলে, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ। ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ থেকে তাকে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।পরে বরিশালে আরো চারটি মামলায় তাকে আসামী করা হয়।
আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে উপরের ঢাকার একটি এবং বরিশালের চারটি মামলায় জামিন লাভ করেন।
এরপর ঢাকার মোট তিনটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় মঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহকে। এ কারণে গত দুই বছর ঢাকা এবং বরিশালের কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে তাকে।
পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ২১ সেপ্টেম্বর বরিশালে বিস্ফোরক আইনের ৫৬১ নম্বর মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় মঈন আবদুল্লাহকে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে ফিরোজ তালুকদার ওরফে পলাশ হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
সবশেষ গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পরিবারের দাবি- বরিশাল বা ঢাকায় দলীয় রাজনীতিতে ছিলেন না মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ। গত ১৭ বছর ধরে মূলত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও শুধুমাত্র পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে একের পর এক মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মঈন আবদুল্লাহর পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘ভিত্তিহিন এবং মিথ্যা মামলায় মঈন আবদুল্লাহকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। শুধুমাত্র জেলখানায় আটকে রাখার জন্য তাদের একের পর এক মামলায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আজকে মানবতা, মানবাধিকার হেরে গিয়েছে। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেলগেটে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র তিন ছেলের মধ্যে মঈন মেজ। বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। সাদিক বরিশালে বাবার রাজনীতি দেখভাল করতেন। ছোট ছেলে আশিক আবদুল্লাহ নিজ এলাকা আগৈলঝাড়া-গৌরনদীতে বাবার রাজনীতি ও অন্যান্য সব কিছু দেখভাল করতেন। আশিক আবদুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে থাকলেও মঈন আবদুল্লাহর স্থানীয় কোনো কমিটিতে পদ ছিল না।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
