যশোরের মণিরামপুরে মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী-পুরুষদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের সম্মেলনকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের উদ্যোগে ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক এস এম আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহম্মেদ ফয়সাল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বাকী বিল্লাহ, সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলক কুমার সিকদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আঞ্চলিক সমন্বয়ক সুপ্তি দিব্রা।
সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তারা জানান, মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সমন্বিত সামাজিক-অর্থনৈতিক সেবা প্রদান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। মণিরামপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে উদ্ধারপ্রাপ্ত অনেক নারী ও পুরুষকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেন বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী সেবা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সভায় সুজনের মণিরামপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও রুরাল কনসাসনেস ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. আব্বাস উদ্দীন, সিবাসের পরিচালক জগবন্ধু বিশ্বাস, প্রাইডের পরিচালক উজ্জ্বল কুমার বালা, রাইটস যশোরের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বজলুর রহমান, মনিটরিং কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার স্বর, কেস ম্যানেজার কৃষ্ণা রানী সাহা এবং রূপান্তর সংস্থার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা দীপংকর মণ্ডলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত দুই নারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধের ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশ, কর্মসংস্থান ও অভিবাসনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ যাত্রা করা জরুরি। অন্যথায় পাচারের শিকার হয়ে জীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

