
চট্টগ্রাম, ২০ অক্টোবর – শারদীয় দুর্গোৎসবে সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতি ও সমাজে জাতীয় ঐক্যের এক নতুন ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উৎসব আজ সার্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, এবারের দুর্গোৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সত্যিকারের জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
পার্থক্য লক্ষ্য করার মতো: তিনি বলেন, “আমি অনেকবার বিভিন্ন উৎসবে এসেছি, তবে এবারের পূজার আয়োজনে ভিন্নতা লক্ষ্য করছি। পূজা শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই আমি এখানে এসে দেখছি, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী ও পেশাজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।”
সবাইকে নিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র গঠন: নির্বাচনের পর দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি সাম্যবাদী ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
নিরাপত্তা, ভিন্নমত এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি
অতীতের বিভিন্ন সংকট ও বৈষম্যের কথা স্মরণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট ও বাধা ছিল। তবে বর্তমান সময়ে সব ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠা সেই অন্ধকার কাটিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের জোয়ার আনছে।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ:** চলতি বছর দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা: ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মন্দির বা গির্জার পুরোহিতসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে প্রণোদনার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ
জেএম সেন হলের এই সম্প্রীতির মিলনমেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
- সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
- ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
- চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতারা।
এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

