এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় সিনেমায় নারী অভিনয়শিল্পীদের সাহসী দৃশ্যের আলোচনা বহু সময় তাঁদের অভিনয়কে ছাপিয়ে গেছে। সিমির ক্ষেত্রেও পর্দার সাহসী উপস্থিতি নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য নিয়ে ততটা হয়নি।
সত্যজিৎ রায় থেকে সুভাষ ঘাই
সিমির ক্যারিয়ার শুধু বিতর্কিত দৃশ্যের গল্প নয়; বরং মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা ও শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র—দুই ধারাতেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ১৯৬২ সালে ‘টারজান গোজ টু ইন্ডিয়া’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘দো বদন’, ‘সাথী’সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন।
১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিতে অভিনয় করেন সিমি। বাঙালি পরিচালকের এই ছবিতে কাজ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। পরে মৃণাল সেনের ‘পদাতিক’ ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে। অন্যদিকে রাজ কাপুরের ‘মেরা নাম জোকার’, যশ চোপড়ার ‘কাভি কাভি’ এবং সুভাষ ঘাইয়ের ‘কর্জ’-এর মতো ছবিতে কাজ করে বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
১৯৮০ সালের ‘কর্জ’ ছবিতে তাঁর অভিনীত কামিনী চরিত্রটি বিশেষভাবে আলোচিত। ছবিতে ঋষি কাপুরের বিপরীতে তাঁকে দেখা যায় এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী, রহস্যময় ও নেতিবাচক প্রবণতার নারী হিসেবে। চরিত্রটির জটিলতা ও পর্দায় উপস্থিতি ছবিটির স্মরণীয় দিকগুলোর একটি।
নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে সিমি একসময় বলেছিলেন, সে সময়ের বলিউডের তুলনায় তিনি কিছুটা ভিন্ন মানসিকতার ছিলেন। বাঁধা চিত্রনাট্য, সময়নিষ্ঠা ও পেশাদার কর্মপরিবেশের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি জানিয়েছেন, রাজ কাপুর, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, সুভাষ ঘাই ও রমেশ সিপির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে পারা তাঁর সৌভাগ্য। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫০-এর বেশি।


