মুলাদীতে মোবাইল নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর, তদন্তে কমিটি

মুলাদীতে মোবাইল নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর, তদন্তে কমিটি

১৭ October ২০২৬ Saturday ১১:১৪:৩৯ PM

Print this E-mail this


মুলাদী ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

মুলাদীতে মোবাইল নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর, তদন্তে কমিটি

বরিশালের মুলাদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর, চুল টানাটানি ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মুক্ত স্থানে কয়েকজন তরুণী ও কলেজছাত্রী বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। কয়েকজন তরুণী অন্য দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানাটানি, চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটা করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত দুই ছাত্রী তোয়া ও সুমি গত ১৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কলেজে গেলে এ হামলার শিকার হন। অভিযোগকারীদের দাবি, উম্মে হাবিবার সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে কলেজে যাওয়া-আসা করতেন।

কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর তোয়া ও সুমি হাবিবার ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবা বৃহস্পতিবার সহপাঠী কেয়ার মাধ্যমে তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে উম্মে হাবিবার বড় বোন নাছরিনসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে তোয়া ও সুমি বলেন, অভিযুক্তরা তাদের চুল ধরে টানাটানি, পেটে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ সময় পোশাক ধরে টানাটানি করে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি এবং কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তোয়া বলেন, আমরা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। তাই বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুলাদী থানার ওসিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts