| ১৩ October ২০২৬ Tuesday ৬:৫০:১৪ PM | |
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তেলিখালী ইউনিয়নে ‘আজাদী করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিব হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও।
এছাড়া ইকড়ি ইউনিয়নে ‘হাওলাদার ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাওলাদার। গৌরীপুর ইউনিয়নে ‘নাসির ট্রেডার্স’র নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন বিএনপি নেতা নাছির হাওলাদার। ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে ‘মেসার্স মাইশা এন্টারপ্রাইজ’র মালিক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমীন। ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকায় ‘মেসার্স আরমান এন্টারপ্রাইজ’র মোস্তফা কামাল এবং ধাওয়া ইউনিয়নে ‘মেসার্স একতা স্টোর’র মো. হাবিবুর রহমানও সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের জন্য মোট ৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। উপজেলা বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীকে সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। উপজেলা কমিটির সূত্র জানায়, ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই জেলা কমিটি ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সার ডিলারদের তালিকা থেকেও নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্তের ব্যবসায়িক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীকে সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি ডিলার নিয়োগ দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, উপজেলা কমিটি কাগজপত্র যাচাই করে জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কে দলীয়, আর কে দলীয় নন, তা উপজেলা কমিটির দেখার বিষয় নয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছিল।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

