পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক 

৩০ September ২০২৬ Wednesday ১০:০৫:৩০ PM

Print this E-mail this


ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক 

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ৬২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬২ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৯৭ পদও শূন্য রয়েছে।

শিক্ষা অফিস সূত্র আরও জানায়, উপজেলার ১০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকলেও এর মধ্যে ৪৮ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও করতে হচ্ছে। বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয় তাদের। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। ২০২৩ সালে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের দাবিতে একটি মামলা করা হয়। চলতি বছরের ২ জুলাই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

৬৮ নম্বর হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান সুমন বলেন, মামলাটি ২ জুলাই নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে রায়ে কী বলা হয়েছে, তা আমরা এখনো জানতে পারিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, ৬২ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবিতে মামলা থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন পদোন্নতির বিষয়ে কার্যক্রম হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছে। দ্রুতই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে আশা করছি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts