যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া স্কুলপাড়া এলাকায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ব্যবসার নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক মো. আব্দুল খালেক (৭৩)।
এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল খালেক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আব্দুল খালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় জমি-জায়গা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা লোহার রড, এসএস পাইপ, শাবল, ধারালো দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথম অভিযুক্ত মো. জিয়াউর রহমানের নির্দেশে কয়েকজন আব্দুল খালেকের ছেলে মো. হেলাল হোসেন (২৮) ও পুত্রবধূ মোছা. শারমীন সুলতানাকে (২৪) মারধর করেন। এ সময় শারমীনের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকার শুনে আব্দুল খালেকের ছোট ভাই মো. সেকেন্দার আলী (৬৫) ও ভাইপো মো. মাসুম বিল্লাহ (৪৬) এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বড় পুত্রবধূ মোছা. ইয়াসমিন আরা (৩৭) ও ১৩ বছর বয়সী মোছা. আফিয়া ইবনাত মালিহার ঘরের দরজা ভেঙে তাদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
আব্দুল খালেকের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন। পরে ঘরে থাকা ব্যবসার নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে দুটি চেইন, দুই জোড়া কানের দুল ও এক জোড়া রুলি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহতদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে মো. জিয়াউর রহমান (৫৫), মো. তুহিন বাবু (৪০), মো. আলিফ হোসেন (২২), মো. জিল্লু রহমান (৫৬), মো. আশরাফ হোসেন (৫২), মো. জাহিদ হোসেন (৪৭) ও মো. সজিব হোসেন (২৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে করা এসব দাবির বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


