
কারাকাস, ১৮ সেপ্টেম্বর – দীর্ঘ সাত বছরের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর অবসান হতে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার বিপুল সোনার ভাগ্য নিয়ে টানাপোড়েন। লন্ডনের সুরক্ষিত ভল্টে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা প্রায় ৩১ টন সোনা এবার নিউইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হতে যাচ্ছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী পক্ষ। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা মূল্যের এই বিপুল সোনার মজুত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে স্থানান্তরের কূটনৈতিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সমঝোতার মূল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলোচনার সাথে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে কিছু কারিগরি দিক নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
কঠোর তদারকি: সমঝোতা অনুযায়ী সোনা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হলেও তা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। অপব্যবহার রোধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে।
সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ নেই: সমাজতান্ত্রিক সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা কঠোর শর্তের দাবি জানিয়েছে। ফলে সরকার চাইলেই এই সোনা বিক্রি বা ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারবে না।
সুপ্রিম কোর্টের লড়াইয়ের অবসান: ২০১৯ সালে হুয়ান গুয়াইদোকে পশ্চিমা বিশ্ব স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানো আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তি।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন সমীকরণ
গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর পরপরই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
একই সাথে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের সাথেও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে একমত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। লন্ডনের সোনা স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সবচেয়ে বড় বাস্তব উদাহরণ হতে যাচ্ছে!
এনএন/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

