যশোরে বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন সাবেক সেনা সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ। এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, বৈধ দলিল ও নামজারি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া মৌজার ৭০১ ও ৭০২ নম্বর দাগের ৯.৩৭ শতক জমি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে স্থানীয় সুজনের কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তার নামে নামজারি খতিয়ানও অনুমোদন হয়।
আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় স্থানীয় মিলন, তার স্ত্রী এবং ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিএম এলোম হোসেন রানা বাধা দেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি প্রাচীর নির্মাণ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা রানা জমি বিক্রেতা সুজনের মৃত চাচার স্ত্রী হনুফা বেগমকে সামনে এনে জমিতে অংশীদার দাবি করান এবং ১৪৪ ধারায় মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ৪৫৯/২৬।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২২ আগস্ট বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানার মদদে হনুফা খাতুন, তার ছেলে রায়হান ওরফে রকি, রিফাত, গোলাম নবী, আসাদুল্লাহ, রফিকুল ও বিপুলসহ কয়েকজন তার জমিতে প্রবেশ করে শ্রমিকদের বের করে দেন এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেন সাবেক এই সেনা সদস্য।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অবৈধ ক্রেতা’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমার কাছে বৈধ দলিল, নামজারি এবং পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার জমিতে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা কেন করা হচ্ছে—এটাই আমার প্রশ্ন।”
তিনি জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এরআগে ওই জমির পূর্বের মালিক সজিবের পরিবার বিএনপি নেতা রানার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলণ করে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন, ভাই সাবেক সেনা সদস্য জাহিদ হোসেন, সাবেক সেনা সদস্য মফিজুল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য তুহিন হোসেনসহ অন্যান্যরা।

