পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে ‘রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সল, নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, এডমিন মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন, হাসানুজ্জামানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। নিজের রক্তের গ্রুপ জানা এবং প্রয়োজনে অন্যের জীবন বাঁচাতে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করা সম্ভব।
অভিভাবক হাবিবুর রহমান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা জরুরি। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের এ কর্মসূচি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।
অভিভাবিকা নার্গিস বেগম বলেন,জরুরি মুহূর্তে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা না থাকলে বিপদ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব—শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।
অভিভাবক হুমায়ুন কবির মিলন বলেন, সন্তানরা শুধু ভালো ফলাফল করবে—এমন প্রত্যাশার পাশাপাশি তারা যেন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের শিক্ষা এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব।
ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সল বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং মানবিক, নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সমাজের জন্য কল্যাণকর নাগরিক তৈরি করাও এর অন্যতম দায়িত্ব।

