সীতাকুণ্ডের আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় কাটারম্যান মো. আলাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারসহ আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।
এ দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিক নিহত ও ১৪ জন আহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৮ আগস্ট আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় কাটারম্যান আলাউদ্দিন নিহত হন। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনায় শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অনেক ইয়ার্ডে শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), বিষাক্ত গ্যাস পরীক্ষা এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ইয়ার্ডের অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়।
স্কপের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দুর্ঘটনার পর বিষয়টি গোপন করার অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা, মালিকপক্ষ, ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদার কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা।
এ ছাড়া নিহত শ্রমিকের বয়স ও পরিবারের আর্থিক-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামের সব শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পিপিই, বিষাক্ত গ্যাস পরীক্ষা, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শ্রমিককে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিকদের আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
স্কপ চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের জীবন কোনোভাবেই অবহেলা বা অনিয়মের কারণে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। আল বারাকা শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের বিচার এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, আল বারাকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আহত শ্রমিক আলাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি ২৩ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছিল।
নেতারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের মৃত্যুও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। শিপইয়ার্ডে বারবার দুর্ঘটনা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করতে মালিকপক্ষ, সরকার, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং শ্রমিক পক্ষের সমন্বয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
পত্রে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কে এম শহিদুল্লাহ, রেজোয়ানুর রহমান খান, আব্দুল বাতেন, অ্যাডভোকেট এমরান, নুরুল আবছার তৌহিদ, আবু আহম্মদ, গোলজার বেগম, খোরশেদ আলম আলকাদেরী জয়, সোহাগ হোসেন, মোজাফফর চৌধুরী প্রমুখ।

