
চট্টগ্রাম, ২৬ আগস্ট – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ফ্লাইটে ছানোয়ারা বেগম নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে বিজি ১৩৬ ফ্লাইটে ওমরাহ শেষে ফেরার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মায়ের মরদেহ মাস্কাটে রেখেই তার ছেলে এরশাদকে একাকী চট্টগ্রামে ফিরতে হয়েছে। বর্তমানে মরদেটি ওমানে রয়েছে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তা দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত ছানোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের পূর্ব বিল্লিয়ার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম নুরুল আমিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায় গত ২৫ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরব যান। সেখানে দুই ছেলের সাথে কয়েক মাস থাকার কথা ছিল তার। ফেরার পথে বিমানের ভেতর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসার জন্য ফ্লাইটটি ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাস্কাট বিমানবন্দরে মরদেহটি নামানোর প্রক্রিয়া চলাকালে ওমানের স্থানীয় আইন ও রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। আইনি আনুষ্ঠানিকতার কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহটি উড়োজাহাজের ভেতরেই ছিল। পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহটি মাস্কাটে নামিয়ে রাখা হয় এবং ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান ছানোয়ারা বেগম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি সম্ভবত ওমরাহ পালনের আনুষ্ঠানিকতাও পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি। এর আগে তার স্বামী নুরুল আমিনও একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান বুধবার দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে অবতরণ করে। মরদেহটি দ্রুত স্বজনদের কাছে পাঠানোর জন্য ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।
এনএন/ ২৬ আগস্ট ২০২৬



