বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

৫ August ২০২৬ Wednesday ৬:২৯:৩৪ PM

Print this E-mail this


মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে হলুদ সোনালি বাটা (Yellow Goatfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হয়। মাছটি স্থানীয়দের কাছে সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।

জানা যায়, আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ গদিতে নিয়ে আসা হলে এর উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রঙ ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছটি এক নজর দেখতে ভিড় করেন।

এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে বিরল ও ভিন্ন প্রজাতির একাধিক সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বহন করে।

ট্রলার মাঝি আসাদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এটি আমাদের জালে উঠে আসে। মাছটির রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে আসে।

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখিনি। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি, তবে মাছটি অনেক ছোট।

আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণা করা প্রয়োজন। 

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, হলুদ সোনালি বাটা (Upeneus sulphureus) বা গোটফিশ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ, যা সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত। 

তিনি বলেন, থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড় (barbels) ব্যবহার করে এটি সমুদ্রের তলদেশে বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় তলদেশের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছটি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর প্রোটিনেরও একটি ভালো উৎস।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা আমাদের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাছ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts