পাট চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৩৮৮ হেক্টর, উৎপাদন বেশি চাঁদপুর সদরে

পাট চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৩৮৮ হেক্টর, উৎপাদন বেশি চাঁদপুর সদরে

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখন পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কৃষকরা। একদিকে পাটের ন্যায্যমূল্য অন্যদিকে উৎপাদনের চেয়ে খরচের হার বেশি হওয়ার কারণ। এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপপরিচালক পিপি মোঃ সিরাজুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি জানান অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার পাটের চাষাবাদ বেশি হয়েছে। ফলে এ বছর উৎপাদনও বেশি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন,পাটের লক্ষ্যমাত্রা এ বছর ৩ হাজার ৩৮৮ হেক্টর। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ২২১ মেট্রিক টন। বর্তমানে ফসল কর্তন করা হয়েছে ২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে । চাঁদপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফসল উৎপাদন হয়েছে সদর উপজেলায় ১৫৮০ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে বর্তমানে কর্তন করা হয়েছে ১০৬০ হেক্টর জমির ফসল। সরকারিভাবে প্রনোদনা হিসেবে ৬ শত কৃষকের মধ্যে প্রতিজন এক কেজি করে বীজ এবং ১০কেজি করে সার দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম তিনি আরো বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার আবাদের পরিমাণ বেশি হয়েছে । যার ফলে উৎপাদনও এবার বেশি হবে বলে আমি আশা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সরকারিভাবে ধান এবং চাউল ছাড়া কোন ফসলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমানে দেশে দু প্রজাতির পাট উৎপাদন হয়ে থাকে একটা হচ্ছে তোষা পাট এবং অন্যটি হলো দেশি পাট । তোষা পাটের মূল্য প্রতি মন ৪০০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে অন্যদিকে দেশি পার ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রকারভেদে ভালো হলে এ সমস্ত পাটের মূল্য কম বেশি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের যে সমস্ত জুট মিলগুলো চালু রয়েছে সেখানে পাটের ব্যবহার হয়। এছাড়া বাকি যে সমস্ত পাট থাকে সেগুলো ভারত এবং তুরস্ক ও চীন রপ্তানি করা হয়। তবে বাংলাদেশের যে সমস্ত বড় বড় জুট মিলগুলো বন্ধ রয়েছে সেগুলো যদি চালু থাকে তাহলে পাটের ব্যবহার বেশি হবে এবং কৃষকরা ও লাভবান হবে।সরকারিভাবে পাট না কেনার কারণে কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারিভাবে এ সমস্ত পাট গুদামজাত না করার কারণে এর লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের হাতে। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাজার মনিটরিং এর কোন ব্যবস্থা নেই। যার ফলে কৃষকরা তাদের পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা। কারণ উৎপাদনের চেয়ে খরচের পরিমাণ বেশি।

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মোঃ মজিদ গাজী নামের এক কৃষকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন বর্তমানে আমরা পাট উৎপাদনের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন আমাদের যে পরিমাণ শ্রমিকের মজুরি এবং সার ও বীজের দাম বেশি সে তুলনায় আমরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিনা। প্রতিবছর আমরা ঋণ করে পাট চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে আমরা নিজেরাও ঋণগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছি। যার কারণে আমরা অন্যান্য ফসলের উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছি। সরকার আমাদেরকে যদি পাটের একটা দাম নির্ধারণ করে দিত তাহলে আমরা বিক্রি করে কিছুটা হল লাভবান হতাম।

বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা হাটের দিন বাজারে পাট নিয়ে আসলে এক ধরনের দালালরা তাদেরকে আটকে রাখে এবং কম দামে তাদের কাছ থেকে পাট কিনে তা গুদামজাত করে রাখে। পরবর্তীতে উক্ত পাট বেশি দামে তারা বিক্রি করে ট্রাকযোগে ঢাকা নিয়ে যায়।

কৃষকদের একটাই দাবি পাটের চাহিদা বৃদ্ধি করতে হলে সরকারের কঠোর নজরদারি দিতে হবে। এছাড়া ধান এবং চাল এর মত দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। তাহলে আমরা সঠিক দাম পাব এবং আগামীতে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। অন্যথায় দেশের সোনালী আঁশ পাট চাষে আগ্রহ কমে যাবে এবং আগামীতে পাটের উৎপাদন দেশে হবে না। তাই সরকারের প্রতি একটাই আবেদন আমাদেরকে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ান যাতে আমরা ন্যায্য মূল্য পেয়ে চলতে পারি।

নিজস্ব প্রতিবেদক/
২৮ জুলাই ২০২৬

Explore More Districts