সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। বহু বছর ধরে এ উৎসব সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ইসকন সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের অষ্টম দিনে জাগ্রত ছাত্র সমাজ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কয়েস লোদী বলেন, রথযাত্রার সংস্কৃতি আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এবং সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলা। এই ঐতিহ্য আমরা সবসময় ধরে রাখতে চাই। উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমরা যখন সম্প্রীতির এমন আয়োজন করি, তখন একটি অপশক্তি এই সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে। কেউ যেন এই উৎসব ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির দুর্যোগ, ত্রাণ ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভূমি ও আইন বিভাগের সম্পাদক শ্রীধর সুধাম দাস।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসকন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুনা দাস ব্রহ্মচারী। তিনি বলেন, রথযাত্রা উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। এই সম্প্রীতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিলেট ভক্তিবেদান্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ পদ্মলোচন শ্যাম দাস।
আলোচনা সভা শেষে ভক্তিমূলক সংগীত, নৃত্য ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, সুধীজন, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে সম্প্রীতি, মানবতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।


