লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস- ২০২৬ এ সম্মানিত হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের ঐতিহাসিক চলমন্ডলি রুম অ্যান্ড টেরেস, হাউস অব লর্ডসে অনুষ্ঠিত ব্যবসা, বিনোদন, সমাজসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, ফ্যাশন ও শিল্প-সংস্কৃতির অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত তৃতীয় বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সম্মানিত হওয়ায় ড. সৈয়দ রাগিব আলীকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারী-১ এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা প্রদান করার জন্য দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করেই যেন বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ বছরের অন্যতম বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন সম্মাননা লাভ করায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা ড. সৈয়দ রাগিব আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ড. সৈয়দ রাগীব আলীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষায় জাতির মেরুদণ্ড, তাই সমাজ ও দেশের উন্নয়নে শিক্ষার প্রসারকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অনকে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মেডিকেল কলেজ এবং দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর এই সুদূরপ্রসারী চিন্তা, কর্মনিষ্ঠা সমাজ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে মানব সম্পদ তৈরির অঙ্গীকার তাঁকে দেশে এবং বিদেশে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। বিন্দু থেকে সিন্দু- ড. সৈয়দ রাগীব আলীর এই গৌরবময় জীবন ও কর্মের সফলতার উপর শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারলে নিজের পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে। তাঁর এই আলোকিত কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরিশেষে তিনি দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হওয়ায় লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষ থেকে গর্ববোধ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা কেবল বিশেষ ব্যক্তিগণই পেয়ে থাকেন উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর নেতৃত্ব ও তাঁর মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড কেবল বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদান তুলে ধরে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর ও ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসা. হালিমা বেগম, আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিসেস শাম্মী আক্তার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জিয়াউর রহমান, স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ মহসিন আলী, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অমিত চক্রবর্তী, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. নিয়াজ মোর্শেদুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ। তাছাড়া সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শামিমুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপকদের মধ্যে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোহরা জামিন জোহা এবং প্রভাষকদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আলী ওমর। বক্তব্যে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্মাননা প্রদান করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং অফিস প্রধানগণ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে প্রদান করা মানপত্র পাঠ করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কুলসুম মিলি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে নিবেদন করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং ছড়া পাঠ করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেকশন অফিসার (গবেষণা) মো. জসিম উদ্দিন।
দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কার ছাড়াও অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন, তারমধ্যে শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতিসংসদ পুরস্কার ১৯৯৪, বাংলাদেশ জাতীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ পুরস্কার ১৯৯৭, বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি পুরস্কার ১৯৯৯, মাওলানা আকরাম খাঁ স্মৃতি পদক ১৯৯৮, অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ শান্তিপদক উল্লেখযোগ্য।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুনের পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর জীবন ও কর্মের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. মামুনুর রশিদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন দপ্তর প্রদান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

