শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: কয়েস লোদী

শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: কয়েস লোদী

শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: কয়েস লোদীসিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে।

মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বুধবার (৮ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের দানকৃত অর্থের ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে অর্থ গণনার পুরো প্রক্রিয়া সবার উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে, যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা সংশয়ের অবকাশ না থাকে।”

তিনি জানান, এ কার্যক্রমের সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় উচ্চপর্যায়ের কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অর্থ গণনার পদ্ধতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাংকে অর্থ জমাদানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “মাজারের দানের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শনিবার গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ আগের মতোই সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হবে। সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

এ নিয়ে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হবে। এর আগে গত ২২ জুন প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেক ও একটি দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে পুরো অর্থ জেলা প্রশাসনের নামে সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রণয়নের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-এর নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা এবং তা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার প্রক্রিয়া মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts