ইউরোপে মার্কিন সেনা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর কথা ভাবছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প – DesheBideshe

ইউরোপে মার্কিন সেনা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর কথা ভাবছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প – DesheBideshe



ইউরোপে মার্কিন সেনা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর কথা ভাবছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ৭ জুলাই – ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের একটি বৈঠকে তিনি এই ধারণা তুলে ধরেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, চলতি বছরের বসন্তে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর অন্য সদস্যরা অংশ নেয়নি। ওই বৈঠকে তিনি জানতে চান, ইউরোপে মার্কিন সেনা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হলে তা মিত্রদের কাছে যথাযথ বার্তা পৌঁছাবে কি না।

এই আলোচনার পরপরই পেন্টাগন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক মোতায়েন কর্মসূচি হঠাৎ বাতিল করে এবং কিছু সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। জানা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ন্যাটো বৈঠকে আরও বড় পরিসরে সেনা কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন।

তবে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের পর্যালোচনার পর সেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। এর পরিবর্তে হেগসেথ ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ছয় মাসব্যাপী একটি পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করেন যে এই পর্যালোচনায় কিছু দেশ ব্যর্থ হবে আবার কিছু দেশ সফল হবে।

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান সামরিক জোটটিকে নতুন চাপে ফেলেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তার অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

বরং বারবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র একাই ইউরোপের নিরাপত্তার মূল ব্যয় বহন করছে। এছাড়া ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছার পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতি তার নমনীয় অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার জানিয়েছেন যে আঙ্কারার সম্মেলন মিত্রদের জন্য দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত সময়। ইউরোপীয় নেতারা আশা করছেন যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে ট্রাম্পের অসন্তোষ কমানো সম্ভব হবে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে দাবি করেছেন যে ট্রাম্পের চাপের কারণেই ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা সম্মেলনটির সফল সমাপ্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমেও তার অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন যে মিত্রদের একতরফা আচরণের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে চলা অসম্ভব। ইউরোপীয় নেতারা অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন যে ইরানে সামরিক অভিযানের আগে তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মহাদেশটির নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকেই নিতে হবে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের সাথে পৃথক বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। তবে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইউক্রেনকে সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে ইউরোপ।

এস এম/ ৭ জুলাই ২০২৬



Explore More Districts