সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, বাবর-আরিফুল হকসহ ৯ জন খালাস
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে আজিজ নাঈম নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক হুইপ জি কে গউছসহ মোট ৯ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, মামলায় আজিজ নাঈমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সেয়দপুর এলাকায়। তিনি অতীতে একাধিক আলোচিত বোমা ও জঙ্গি হামলা মামলার আসামি ছিলেন এবং প্রায় ২০ বছর কারাভোগ করেছেন। তদন্ত চলাকালে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া তিনি সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর সিলেটে গ্রেনেড হামলা, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর হামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলাসহ একাধিক আলোচিত মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে আনোয়ার চৌধুরী হামলা মামলায় তিনি পরে খালাস পান। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আজিজ নাঈমের পরিবার। রায় ঘোষণার পর তার ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ দাবি করেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
অন্যদিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমকেও রায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ঘটনার পটভূমি:
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

