সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, নগরীতে অত্যাধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। দীর্ঘদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার সমাধানে এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।
রবিবার সিলেট নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিকসিলেটডটকম -এর সঙ্গে আলোচনা কালে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে নগরীতে হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা একটি আধুনিক ও বিভাগীয় শহরের জন্য মোটেই কাম্য নয়। যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাইয়ূম চৌধুরী আরো বলেন, ডিজিটাল সিটির স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশে প্রচলিত সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিবর্তে এআই-নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। এতে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে সিলেট নগরীতে ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানাসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সিগন্যাল ব্যবস্থা কখনোই কার্যকর হয়নি। ফলে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নগরীর যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নির্ভর করে আছে ট্রাফিক পুলিশের হাতের সংকেতের ওপর।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই একটি স্থানে পুরোনো সিগন্যালের খুঁটি এখনও জীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও বাতির অস্তিত্বই নেই। এগুলো যেন অতীতের একটি ব্যর্থ উদ্যোগের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
২০১৭ সালে সিলেটকে দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নানা সেবার সূচনা হলেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর নতুন উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিগন্যাল স্থাপন করলেই হবে না; এর সুষ্ঠু পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নিতে হবে। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সিলেট সত্যিকার অর্থেই একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরীতে পরিণত হতে পারে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার আর কোনো প্রকল্প কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালুর মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান মিলবে।
