বৈশ্বিক সংকটেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হয়নি: ইকবাল হাসান মাহমুদ – DesheBideshe

বৈশ্বিক সংকটেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হয়নি: ইকবাল হাসান মাহমুদ – DesheBideshe



বৈশ্বিক সংকটেও দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হয়নি: ইকবাল হাসান মাহমুদ – DesheBideshe

ঢাকা, ১২ জুন – বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পটভূমিতেও বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার ফ্লোরিডার মতো উন্নত অঙ্গরাজ্য জ্বালানি সংকটের মুখে পড়লেও বাংলাদেশে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সবসময় স্থিতিশীল ছিল। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করা, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা অর্জিত হলেও সেখানে গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল। একই সাথে দেশের স্থলভাগের গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সের সাফল্যের ইতিহাস থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহ করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান বাড়ানো হবে।

সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এরই মধ্যে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। গভীর সমুদ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা এক মাস পর শেষ হবে এবং এরপর ব্লক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জ্বালানি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তিতে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল কেনা হয়েছে যেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে তা গ্রাহকদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে সরকারকে বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এছাড়া আইপিপি খাতের বকেয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের চাপের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাজারে সক্ষমতা বজায় রাখতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই। এজন্য নতুন বাজেটে সোলার ব্যাটারির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগগুলোর সুফল আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনএন/ ১২ জুন ২০২৬



Explore More Districts