মোহাম্মদ আলী
তদন্ত কর্মকর্তার একটি পক্ষাশ্রিত মিথ্যা প্রতিবেদনে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছে একটি পরিবার, বেদখলে চলে গেছে ক্রয়কৃত ভূমি। সেই অসাদু কর্মকর্তা বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও ১বছরে মিলেনি প্রতিকার। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী ভূমি মালিকের। কিন্তু, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের সুলতানা মিয়া, ১৯৯২ সালে বেলটিয়া মৌজায় ৪৮ শতাংশ জমি বৈধ কবলা খরিদ করে তাতে বসত বাড়ি, পৌর হোল্ডিং নাম্বার ও গ্যাস সংযোগ নিয়ে, হাল নাগাদ খারিজ খাজনা দিয়ে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। এরই মধ্যে আক্রোশবসত স্থানীয় কিছু মন্দ লোক সুলতান মিয়ার বসতভিটায় ম্যাপের রাস্তা রয়েছে মর্মে জামালপুর পৌরসভায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। সেইসব দুষ্ট লোকের দেওয়া মিথ্যা তথ্যের প্রেক্ষিতে সুলতানা মিয়ার ভোগ দখলীয় ভূমির উপর একটি অমূলক ভিত্তিহীন মামলা করে পৌরসভা। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সে মামলা মোকাবেলা করে আসছিলেন সুলতান মিয়া। এমতাবস্থায়, আদালতে মামলা চলাকালীন ২০২২ সালে তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষ বেআইনি ভাবে দলবল নিয়ে সুলতান মিয়া ও তার ছেলে রাসেলকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পৌরসভায় আটকে রেখে, ঘরবাড়ি ভেঙে উঠানের ভিতর দিয়ে ইটের সলিংয়ের রাস্তা নির্মাণ করে।
অতঃপর জামালপুর পৌরসভার জোরমূলে অবৈধ দখলে চলে যাওয়া ভূমি উদ্ধার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সুলতান মিয়া। মামলা নং ১২/২০২৫।
আদালত তার মামলাটি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার ভূমির প্রতি তদন্তে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা, তানভীর হায়দার, তার অধীনস্থ জামালপুর পৌর ভূমি অফিসের নায়েব (উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা), মোঃ আব্দুল গণীর প্রতি বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
উপ- সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে, পক্ষাশ্রিত হয়ে, কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিবাদীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে, মিথ্যা, বানোয়াট প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার কারণে আদালত সুলতান মিয়ার দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি খারিজ করে দেয়।
এতে করে তদন্ত কর্মকর্তা, মোঃ আব্দুল গণীর পেশাগত দায়িত্ব পরিপন্থী অসাদারচাণের কারণে ন্যায়বিচার বঞ্চিত ও ক্রয়কৃত ৭শতাংশ সম্পত্তি ক্ষুয়া গেছে বলে দাবি সুলতান মিয়ার পরিবারের।
এর প্রতিকার চেয়ে ১বছর আগে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, আব্দুল গণীর বিরুদ্ধে জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করলেও আজো তার কোনো সুফল পাননি পরিবারটি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেলটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন ও মোবারক হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, সুলতান মিয়া জমি কেনার আগে ও পরে এখানে বেলটিয়া বাজার থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত কোনো রাস্তা ছিল না। পৌরসভার লোকজন এসে সুলতান মিয়া ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে পৌরসভায় আটকে রেখে জোরপূর্বক ইটের সলিংয়ের রাস্তা নির্মাণ করেছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, মোঃ আব্দুল গণী, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ নিয়ম মেনে নিরপেক্ষতা সাথে পালন করেছি।
তবে, তদন্ত কর্মকর্তার এমন উক্তি মানতে রাজি নন সুলতান মিয়া। তিনি বলেন, আমার সরলতা ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সম্পৃক্ততায় অভিযুক্তরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।