
ওয়াশিংটন, ৩০ এপ্রিল – রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ৯০ মিনিটের এক দীর্ঘ ফোনালাপে ইরানের সঞ্চিত ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিন এই জটিল প্রক্রিয়ায় সহায়তার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের পরমাণু সমস্যার চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়াকেই তিনি বেশি প্রাধান্য দেবেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ইরানের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আছে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর গত কয়েক বছরে ইরান প্রায় ১১ টন বা ২২ হাজার পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তেহরানের কাছে থাকা ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতে এই পর্যায় থেকে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ইউরেনিয়ামকে পরমাণু ধূলিকণা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন যে কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্যেই গত দুই মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন যে স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী এই মজুদের বড় অংশ ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সে রয়েছে।
তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আইএইএ পরিদর্শকরা সেখানে সরাসরি প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনের পর থেকে ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমেই তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে।
এস এম/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬




