ডাক্তারের কক্ষ দখল রিপ্রেজেন্টেটিভদের,যশোর জেনারেল হাসপাতালের রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

ডাক্তারের কক্ষ দখল রিপ্রেজেন্টেটিভদের,যশোর জেনারেল হাসপাতালের রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

রাজীব হোসেন,যশোর : চিকিৎসা মানে স্বস্তির স্পর্শ, আশার আলো। কিন্তু সেই আশার দুয়ারেই যেন জমেছে অদৃশ্য এক ভিড়—যেখানে রোগীর দীর্ঘশ্বাস চাপা পড়ে যায় বাণিজ্যিক ব্যস্ততার কোলাহলে। এমনই চিত্র উঠে এসেছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এ।

নিয়ম অনুযায়ী, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেন্টেটিভ) ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎ করার নির্ধারিত সময় শনিবার ও মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের পর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন দৃশ্য। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্ধারিত সময় উপেক্ষা করে দুপুর বারোটার মধ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করছে। ডাক্তারের সহকারীদের সাথে কথা বলে তারা সরাসরি ঢুকে পড়ছে চিকিৎসা কক্ষে—যেখানে অপেক্ষমাণ রোগীদের ভিড়ের মাঝেই চলছে ওষুধ কোম্পানির প্রচারণা।

ওয়ান নিউজের বিডি’র ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এমনই একাধিক দৃশ্য—ডাক্তারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধিদের আলাপ, এমনকি উপহার হিসেবে ওষুধ প্রদান। সেই মুহূর্তে রোগীরা যেন হয়ে উঠছেন প্রেক্ষাপটের নীরব দর্শক, যাদের কষ্টের গল্প কেউ শুনছে না।

রোগীদের অভিযোগ, এই অনিয়মিত প্রবেশ ও দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিধিদের অবস্থানের কারণে তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। প্রতিদিনের এই অনভিপ্রেত ভিড় তাদের জন্য হয়ে উঠছে এক অদৃশ্য যন্ত্রণা। “ডাক্তার দেখাতে এসে যেন আরেক যুদ্ধ করতে হয়”—এমন আক্ষেপও শোনা গেছে অপেক্ষমাণ রোগীদের কণ্ঠে।


এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হুসাইন শাফায়াত ওয়ান নিউজের বিডিকে বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আজ একজন প্রতিনিধিকে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছিল, পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আমরা আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

চিকিৎসা যেখানে মানবতার সবচেয়ে কোমল স্পর্শ, সেখানে যদি নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যের ছায়া নেমে আসে—তবে সেই স্পর্শ হারিয়ে ফেলে তার উষ্ণতা। যশোর হাসপাতালের এই চিত্র যেন মনে করিয়ে দেয়—স্বাস্থ্যসেবা শুধু নিয়মের নয়, এটি এক অনুভূতির জায়গা; যেখানে রোগীর অধিকারই হওয়া উচিত সর্বাগ্রে।

 

Explore More Districts