চাচার হাতুড়িপেটায় ভেঙেছে হাত, শ্রুতিলেখকে পরীক্ষা দিচ্ছেন বিথী

চাচার হাতুড়িপেটায় ভেঙেছে হাত, শ্রুতিলেখকে পরীক্ষা দিচ্ছেন বিথী

২৩ April ২০২৬ Thursday ৫:২৭:৩৪ PM

Print this E-mail this


মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

চাচার হাতুড়িপেটায় ভেঙেছে হাত, শ্রুতিলেখকে পরীক্ষা দিচ্ছেন বিথী

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডান হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচার বিরুদ্ধে। তবে হাত ভেঙে গেলেও দমে যায়নি বিথী আক্তার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তারের বিশেষ হস্তক্ষেপে একজন শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে অংশ নিয়েছেন বিথী। 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বিথী তোফেল আকন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বিথীর ওপর নৃশংস হামলা চালান তার আপন চাচা। এতে বিথীর ডান হাত গুরুতর জখম হয় এবং ভেঙে যায়। ফলে ডান হাতে লিখতে অক্ষম হয়ে পড়ায় বিথীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিথীর এই সংকটের কথা জানতে পেরে দ্রুত এগিয়ে আসেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার। তিনি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে বিশেষ আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে বিথী। শারীরিক যন্ত্রণা থাকলেও পরীক্ষায় বসতে পেরে বিথী ও তার পরিবার প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। মেয়েটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সে যেন কোনোভাবেই তার শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সেজন্য একজন শ্রুতলেখক বা ‘রাইটার’ প্রদানের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে বিথী আক্তারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো চাচার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। বিথী আক্তার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts