সিলেটে সার্জন টিভির উদ্যোগে ইংল্যান্ড প্রবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আব্দুল মতিন মতুকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শনিবার ৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুণীজন, সুধীসমাজ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুল মজিদ। শুরুতেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, তিলাওয়াত করেন কারী মাওলানা শফিকুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপনা করেন হেপি জান্নাত, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
স্বাগত বক্তব্যে সার্জন টিভির প্রতিষ্ঠাতা জুবের আহমদ সার্জন বলেন, “প্রবাসে অবস্থান করেও আব্দুল মতিন (মতু) দেশের শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি শুধু একজন প্রবাসী নন, বরং দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন আলোকিত মানুষ।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট এম. আতাউর রহমান পীর বলেন, “সমাজের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আব্দুল মতিন (মতু)–এর মতো মানুষরা দেশের জন্য গর্ব। তাদের কাজ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে সাবেক অধ্যক্ষ জগন্নাথপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক জান্নাত আরা পান্না, এনসিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আফজাল, কবি ও জসিম বুক হাউস সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ছয়ফুল আলম পারুল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুয়েব লস্কর আব্দুল মতিন (মতু)–এর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। আব্দুল মতিন (মতু) শিক্ষা বিস্তার, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
নুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জসিম, আবুল কাশেম রুমন, অ্যাডভোকেট তোকির আহমেদ, জসিম বুক হাউসের প্রকাশক জসিম উদ্দিন এবং রোকসানা। তারা প্রত্যেকেই সংবর্ধিত অতিথির মানবিক গুণাবলী ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি মো. মনাফ খান, যিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মিলন কান্তি দাস এবং গীতিকবি ওবায়েত বখত চৌধুরী রুবেল। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন এবং অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সবশেষে সংবর্ধিত অতিথি আব্দুল মতিন (মতু) তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এমন ভালোবাসা ও সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। আমি সবসময় দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবো।”
অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়


