| ২৩ March ২০২৬ Monday ৯:৩৭:৫৭ PM | |
তালতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীতে বিয়ের পর স্বামীকে পছন্দ হয়নি লামিয়া আক্তারের (১৯)। এ জন্য তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ।
তবে তার পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই স্বামীকে পছন্দ করতেন না লামিয়া। এজন্য প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
পরে রমজান মাসে লামিয়া তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে তার স্বামী আরিফ বিল্লাহ তাকে সেখানে পৌঁছে দেন। পরে লামিয়া ও তার পিত্রালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। রোববার রাতে গ্যাস ট্যাবলেট খান তিনি।
এ সময় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে বরিশালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের মা হালিমা বেগম বলেন, বিয়ের সময় জামাতাকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি এবং মেয়েকে একটি নাকফুল দেওয়া হয়। তারপরও বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এজন্য স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই আমার মেয়ে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে।
নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ মোবাইল ফোনে বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও লামিয়া আমাকে পছন্দ করত না এবং সংসার করতে চায়নি। রমজান মাসে লামিয়া তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে আমি নিজেই তাকে পৌঁছে দিয়ে আসি। এর পর থেকে লামিয়া ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমি জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকি। আমার সঙ্গে প্রায় ১ মাস ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। ২৮ রমজান বাবাকে আমার শ্বশুরবাড়িতে ঈদের বাজার, কাপড় ও কসমেটিক নিয়ে পাঠিয়েছিলাম। শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমার বাবাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি এবং তারা ঈদের বাজারও রাখেনি।
তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

