সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারি বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে মাটিবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা দাবি ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতা রহমত মারুফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমেদ জুবের এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রহমত মারুফ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে একই দিন ইফতারের পর জৈন্তাপুর উপজেলার বিরাখাই ইউনিয়নের হাটিরগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রহমত মারুফকে গ্রেপ্তার করে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়গাং নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি সরকারি বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রকল্পের জন্য খাল খননের মাটি ট্রাকযোগে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই মাটিবাহী ট্রাকগুলো হাটিরগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে রহমত মারুফের বাড়ির সামনে সেগুলোর গতিরোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রহমত মারুফের বাবা জামাল আহমদসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন যুবক ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয় শ্রমিকদের। হামলার সময় ট্রাকের গ্লাস ও বডিও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে হলে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করেন রহমত মারুফ। ট্রাকচালক মাহফুজুর রহমান এবং প্রকল্পের ম্যানেজার ফারুক আহমেদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, হামলার সময় প্রকল্প ম্যানেজারের কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর ট্রাক শ্রমিক মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে রহমত মারুফকে প্রধান আসামি করে তার বাবা জামাল আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় সিলেট জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার প্রশ্নে ছাত্রদল কখনোই অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। রহমত মারুফের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী যদি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজি বা বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম বন্ধ হবে এবং উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্নে এগিয়ে যাবে।

