
জেরুজালেম, ২৭ ফেব্রুয়ারি – রমজান মাস এলেই বিশ্বজুড়ে খেজুরের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মেডজুল খেজুর তার স্বাদ ও পুষ্টিগুণে সবার পছন্দের শীর্ষে থাকে। তবে এই জনপ্রিয় ফলটিকে ঘিরে সম্প্রতি সামনে এসেছে নতুন এক তথ্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা, মিডল ইস্ট মনিটর ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশ্ববাজারে বিক্রিত মেডজুল খেজুরের একটি বিশাল অংশ ইসরায়েল থেকে আসে।
এর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদিত হয় ফিলিস্তিনের দখলকৃত জমিতে। জর্ডান সীমান্তবর্তী পশ্চিম তীরের জেরিকো এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বড় আকারের খেজুর বাগান গড়ে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনি বিক্রেতাদের দাবি এসব জমি মূলত তাদেরই। কিন্তু প্যাকেজিং বা মোড়কে কখনও ইসরায়েলি পণ্য আবার কখনও জর্ডান উপত্যকার পণ্য উল্লেখ করে উৎপাদনের প্রকৃত স্থান আড়াল করা হয়। ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী দখলকৃত ভূমি থেকে উৎপাদিত পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী দেশ বা মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের মাধ্যমে নতুন করে প্যাকেটজাত করে পণ্য ইউরোপে পাঠানো হয় এবং ফলে প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে বৈশ্বিক খেজুর বাজারের আকার ছিল ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৩৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ ধরে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাজার ৫৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চল বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি খেজুর উৎপাদন করে যা বিশ্ববাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ।
প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তিউনিসিয়া, ইরান, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও মিসর। তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রপ্তানি করে অথচ তাদের স্বীকৃত সীমার ভেতরে উৎপাদন হয় প্রায় ৮ হাজার ৮০০ টন। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠেছে যে অতিরিক্ত রপ্তানিকৃত অংশের বড় অংশ কি দখলকৃত জমি থেকে আসছে কিনা। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিক বাণিজ্যিক ও আইনি আলোচনাও ক্রমশ বাড়ছে।
এস এম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




