গোদি মিডিয়ার আক্রমণের শিকার বিহারের কে এই ‘খান স্যার’, কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা

গোদি মিডিয়ার আক্রমণের শিকার বিহারের কে এই ‘খান স্যার’, কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা

রাজস্থানের কোটা, দিল্লির মুখার্জি নগর কিংবা উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ (সাবেক এলাহাবাদ) যে সময় দেশের কোচিং হাব বলে পরিচিত, খান স্যার তখন শিক্ষার্থীদের নজর পাটনার দিকে ফেরাতে বাধ্য করেন কোভিডের কারণে। শুরু করেন অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা। ব্যবহার করেন ইউটিউবকে। অন্যদের চেয়ে তিনি বেশি সাফল্য পেতে থাকেন পড়ানোর টেকনিকের কারণে।

খান স্যার যেকোনো বিষয় হিন্দিতে এমন চমৎকারভাবে বোঝান যে তা শিক্ষার্থীদের মগজে গেঁথে যায়। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অমিতাভ বচ্চন তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন নিউট্রন, প্রোটন ও ইলেকট্রনের তুলনা ও ব্যাখ্যা দিতে। ফয়সল খান সেদিন তাঁর সঙ্গে আসা আরেক অতিথি কৌতুকশিল্পী জাকির খান ও অমিতাভ বচ্চনের ব্যক্তিত্বের তুলনা করে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। শুনে মুগ্ধ অমিতাভ বলেছিলেন, ‘এখন বুঝছি, কেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী খান স্যারের গুণমুগ্ধ।’

কোভিডের পর ফয়সল খান তাঁর সংস্থার পরিধি বাড়িয়ে দেন। শুরুতে যেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫০০, কোভিডের পর তা ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন চ্যানেলে বেড়ে চলে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা। বিহারের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি কোচিং সেন্টার খুলে ফেলেন দিল্লির মুখার্জি নগর ও করোলবাগে, উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ ও নয়ডায়, উত্তরাখন্ডের দেরাদুনে।

শুধু কোচিং সেন্টারই নয়, ৩৩ বছর বয়সে খান স্যার খুলে ফেলেছেন সস্তার স্বাস্থ্য পরিষেবা খান হেলথকেয়ার হসপিটাল, খান ব্লাড (ডায়াগনসিস) সেন্টার। খান স্যার ফাউন্ডেশন নামে খুলেছেন এক পাঠাগার নেটওয়ার্ক, যাতে প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা সহজে বই পেতে পারেন। ছোট আকারে হলেও শুরু করেছেন পরিত্যক্ত গরু, বলদের জন্য এক গোশালা।

Explore More Districts