| ৫ February ২০২৬ Thursday ১১:৪৭:২৭ AM | |
তালতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিয়ের কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে এনে চারজন মিলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নিলে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তাকে দেখতে পান। পরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মুসল্লিদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করতেন। সেখানে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে হিরুন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য একসময় হিরুন ভুক্তভোগী নারী ও তার মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এরপর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দেন হিরুন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে মঙ্গলবার বিকালে হিরুনের সঙ্গে মহিপুর থেকে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় আসেন ভুক্তভোগী নারী। পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে হিরুন তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান; কিন্তু রাতের বেলা হিরুনসহ আরও তিনজন ব্যক্তি তাকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
গভীর রাতে অভিযুক্তরা একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে গেলে সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে পাশের একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই সারা রাত অবস্থান করেন। এ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, পরিচয়ের পর বিয়ের কথা বলে আমাকে এখানে নিয়ে আসে। রাতে চারজন মিলে আমার সঙ্গে পাশবিক আচরণ করেছে। আমি এর বিচার চাই।
একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, হিরুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে এনে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা ও নারী দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন, ফজরের নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি এক নারী মসজিদের পাশে বসে কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, হিরুন নামের এক ব্যক্তি তাকে এখানে এনে চারজন মিলে সারা রাত ধর্ষণ করেছে।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


