চট্টগ্রাম বন্দর থেকে হজযাত্রার আদিকথা

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে হজযাত্রার আদিকথা

জাহাজ ও পরিবহনব্যবস্থা

প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ মালিকানাধীন ‘এম্পায়ার অরওয়েল’, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘সারধানা’ এবং বোম্বেভিত্তিক মোগল শিপিং লাইনসের ‘ইসলামি’ ও ‘মুহাম্মদি’ জাহাজগুলো ভাড়া করা হতো। এই জাহাজগুলো চট্টগ্রাম ও করাচি বন্দর থেকে জেদ্দায় হজযাত্রী পরিবহন করত। ১৯৬০ সাল থেকে পাকিস্তান সরকারের প্যান ইসলামিক স্টিম শিপ কোম্পানির জাহাজ, যেমন ‘শাফিনা-ই-আরব ১ ও ২’, ‘শাফিনা-ই-মুরাদ’, ‘শাফিনা-ই-হাজ্জাজ’ এবং ‘শাফিনা-ই-আবিদ’ এই কাজে নিয়োজিত হয়। এ ছাড়া ‘এমভি শামস’ নামের একটি জাহাজ নিয়মিত চট্টগ্রাম ও করাচিতে চলাচল করত। ‘শাফিনা-ই-হাজ্জাজ’ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪ হাজার যাত্রী। হজ মৌসুমের বাইরে এই জাহাজগুলো মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।

১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে জাহাজের তৃতীয় শ্রেণি বা ডেকে ভ্রমণ করে হজ পালনের খরচ ছিল ১ হাজার ৯১৯ টাকা, যার মধ্যে ৯১৯ টাকা ছিল জাহাজ ভাড়া এবং বাকি ১ হাজার টাকা মক্কায় থাকাখাওয়া ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য খরচ ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণির জন্য ৭ হাজার টাকা। তবে করাচি থেকে বিমানে হজযাত্রার খরচ থেকে ৬ হাজার টাকার বেশি।

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের মালিকানাধীন ‘শাফিনা-ই-আরব’ ও ‘শাফিনা-ই-আরাফাত’ জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ পূর্ব পাকিস্তানি হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দায় যায়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে মাইনের উপস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ‘মুহাম্মদি’ জাহাজ চট্টগ্রামের পরিবর্তে মোংলায় যায়, কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে সেখানে নোঙর করতে ব্যর্থ হয় এবং চাঁদপুরে নোঙর করে। ফিরে আসা হজযাত্রীদের আত্মীয়স্বজনকে মোংলা থেকে চাঁদপুরে যেতে হয়েছিল।

Explore More Districts