| ২৯ March ২০২৫ Saturday ১১:২৬:২১ AM | |
বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ ক্রেতাদের
নগর প্রতিনিধি:

বরিশালে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে তরমুজ। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। তাই বিগত বছরগুলোর তুলনায় অন্তত ২৫ দিন আগেই বাজারে এসেছে রসালো তরমুজ। আর রমজান মাস ঘিরে পুরো বাজার এখন তরমুজের দখলে। তবে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়কে চাঁদাবাজি-পরিবহন ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হওয়ায় বাড়ছে তরমুজের দাম।
সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন চর ও তরমুজের মাঠ থেকে ট্রলারযোগে তরমুজ বোঝাই করে বরিশালের কীর্ত্তনখোলা নদীপথে নিয়ে আসা হচ্ছে রসালো ফল তরমুজ। কৃষক তার ট্রলার নিয়ে ঘাটে ভিড়তেই শুরু হয় বেপারিদের সঙ্গে দরকষাকষি। বরিশালের পোর্ট রোড সাত তলা ঘাটে ট্রলারে আসা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা শত দরে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের চেয়ে এ বছর ঘাটে বেপারি কম। তাই তারা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছে না। এতে লোকসানে পরতে হতে পারে তাদের।
তরমুজচাষি মো. স্বপন ও দেলোয়ার জানান, তারা ১৮ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। দুই বোটে তারা তরমুজ নিয়ে এসেছে। গত বছর যে তরমুজ ২২-২৩ হাজার টাকা দাম ছিল তা এবার ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে আমরা অনেক লসের মধ্যে আছি। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার না থাকায় পাইকাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে না। আর পাইকার না আশায় দাম কম যাচ্ছে। এদিকে ট্রলার থেকে তরমুজ কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বেপারিরা। তারা বলছে এ বছর তরমুজের দাম কৃষক ভালো পাচ্ছে। তবে ট্রাকযোগে তরমুজ পাঠাতে সড়কে চাঁদাবাজির কারণে দাম দ্বিগুণ হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
রাজশাহী থেকে আশা বেপারি কাদের বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় তরমুজ পাঠিয়ে দিই। কিন্তু সড়কে ট্রাকে অতিরিক্ত লোড, কাগজপত্রসহ নানা অজুহাতে পুলিশ মামলা দেয়, চাঁদাবাজি শুরু হয়। একশ তরমুজ সাড়ে ১৫ হাজার টাকায় কিনলে চাঁদাসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে ২০ হাজার টাকার মতো পড়ে যায়। আর এ কারণেই দাম বাড়ে।বরিশালের বালুরঘাট আড়তে এনে জমা করা হচ্ছে তরমুজ। এখানে বরিশালের স্থানীয় পাইকারি তরমুজ বিক্রেতারা তরমুজ সংগ্রহ করে বেপারিদের কাছে বিক্রি করছেন। বরিশালের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ট্রলারযোগে নদীপথে আনা হচ্ছে তরমুজ। ফলন ভালো হলেও দাম কম বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি তাদেরও। হাতবদল হতেই বেড়ে যায় তরমুজের দাম বলে দাবি তাদের।
তরমুজের পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, এ বছর ফলন ভালো হলেও কৃষকরা দাম পাচ্ছে না। পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম কম। কিন্তু এটি যখনই হাতবদল হয় তখন দাম বাড়ে। এসব নানা খরচের কারণে খুচরা বাজারে তরমুজের দাম বেড়ে যায়।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের আবাদ ভালো হলেও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাড়তি দামেই তরমুজ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নগরীর বিভিন্ন বাজারে ৪-৫ কেজি ওজনের প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়। আর ৫ কেজির ওপরে ১০ কেজি পর্যন্ত প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়।তরমুজ কিনতে আসা আবদুল লতিফ বলেন, বাজারে ব্যাপক তরমুজ আছে, বরিশালে তরমুজ চাষ হলেও আমরা ভালো তরমুজ পাচ্ছি না। আমরা বেশি দাম দিয়ে নিম্নমানের তরমুজ খাচ্ছি। মনিটরিং না থাকায় বাজারে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, এ বছর বরিশাল জেলায় তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫০ হেক্টর, এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টরের মতো আবাদ বেড়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোসাম্মৎ মরিয়ম জানান, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। জেলায় তরমুজের আবাদ দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে এটি অর্থকরি ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে। চর এলাকায় তরমুজের আবাদ বেড়েছে। বাজারজাতকরণে সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

