| ২ December ২০২৪ Monday ১০:০৭:২৯ PM | |
নিজস্ব প্রতিনিধি:

বরিশাল মহানগর বিএনপিতে বিরোধ বাড়ছে। কমিটির ৪২ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা সভাতেও যাচ্ছেন না। ফলে কোরাম সংকটে শনিবার সন্ধ্যায় সভা করতে পারেননি শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ৯০ দিনের মধ্যে মহানগরের সম্মেলন ও কমিটি গঠনে কেন্দ্রের নির্দেশ বাস্তবায়নে এ সভা আহ্বান করা হয়েছিল।
জানা যায়, গত জুনে গঠিত তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ৫ নভেম্বর ৪২ সদস্যে পূর্ণাঙ্গ করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটির সভায় উপস্থিত হন মাত্র ১৭ জন। যাননি চার যুগ্ম আহ্বায়কসহ ২৫ জন। সভায় না যাওয়া একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, নগরের ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার জন্য শনিবার সভা ডেকেছিল। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কমিটি বিলুপ্ত করে অনুগতদের নিয়ে নতুন কমিটি করবেন, যাতে সম্মেলনে তাদের পদ নিরাপদ থাকে। এটি বুঝতে পেরে ২৫ জন একযোগে সভায় যাননি।
শনিবার রাতে সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, কোরাম সংকটে সভা হয়নি। উপস্থিতদের মধ্যে সভা আহ্বান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উদ্দেশে তিনি বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে সভা আহ্বান বিধিতে নেই। আমাকে ফোন দেওয়া হয়েছে শনিবার দুপুরে। সভার নির্দিষ্ট এজেন্ডা উল্লেখ করা হয়নি। ওয়ার্ড কমিটিগুলো বিলুপ্তির প্রসঙ্গ উঠলে বিরোধিতা করেন নাসরিন। তবে এসব বিষয়ে সমকালের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি নাসরিন।
যুগ্ম আহ্বায়ক হালিম মৃধার অভিযোগ, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব চার যুগ্ম আহ্বায়ক– জসিম উদ্দিন, সাজ্জাদ, মাহফুজুর রহমান ও আল আমিনকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে কমিটি চালাচ্ছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করছেন না। এ জন্য আমরা সভায় যাইনি।
নগর বিএনপির আগের কমিটির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল বলেন, দল চিঠি দিয়ে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন করতে নির্দেশ দিয়েছে। সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার পর ওয়ার্ড কমিটি ভাঙতে চায় বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক কমিটির নেতারা সভা ডাকলে কোরাম হয় না। এ থেকে স্পষ্ট, দলের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে নেই।
জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, সভায় অনেকে ঠিকমতো আমন্ত্রণ পাননি। তাই উপস্থিত হতে পরেননি। তবে ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিমলিডার আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে আলোচনা করে সব ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে। এর জন্য আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে পুনরায় সভা ডেকে, সেখানে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


