৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

জাপানের উত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এতে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবুও ধারাবাহিক ভূমিকম্পের মধ্যে নতুন করে বড় কম্পনের আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানজুড়ে একের পর এক ভূমিকম্প হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

শক্তিশালী

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আবহাওয়া সংস্থাগুলো হোক্কাইডোতে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক কম্পনের মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৮৩ কিলোমিটার। শুরুতে এর মাত্রা ৬.১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলেছে, কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।

তবে জেএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, যেসব এলাকায় বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে সেখানে ভূমিধস ও পাথর ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার আরও ভূমিকম্প হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণের সমুদ্রে আরও একটি ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। গত সপ্তাহেই জেএমএ জানিয়েছিল, বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। এর পেছনে ছিল উত্তর ইওয়াতে প্রদেশের উপকূলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ওই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হন এবং টোকিওসহ বহু এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে। ইওয়াতে একটি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামিও আঘাত হানে।
এরপর জেএমএ জানায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখন বেশি।

প্রসঙ্গত, জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থানের কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বছরে গড়ে প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশটিতে।

২০১১ সালের ভয়াবহ ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনো জাপানের জন্য গভীর বেদনাদায়ক, যেখানে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।

Explore More Districts