‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এর আবহে গ্রিন ল্যান্টার্ন
সিরিজটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর গোয়েন্দা গল্পের ধরন। সমালোচকেরা বারবার ‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এর সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। ছোট শহর, অস্বস্তিকর পরিবেশ, অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড, স্থানীয় মানুষের গোপন অতীত—সব মিলিয়ে প্রথম দিকে এটি অনেকটা ক্রাইম থ্রিলারের মতো এগোয়। এর মধ্যে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে গ্রিন ল্যান্টার্নের বিশাল মহাবিশ্ব।
এই কৌশলটির সুবিধা হলো, যাঁরা কমিকসের ভক্ত নন, তাঁরাও গল্পে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন। আর যাঁরা গ্রিন ল্যান্টার্নের দীর্ঘ ইতিহাস জানেন, তাঁদের জন্য রাখা হয়েছে কমিকসের নানা সূত্র ও ইস্টার এগ।
অর্থাৎ নতুন দর্শকের জন্য রহস্য, পুরোনো ভক্তের জন্য কমিকসের সংযোগ—দুই দিকই সামলানোর চেষ্টা করেছে সিরিজটি।
দুই নায়কের সম্পর্কই আসল শক্তি
‘ল্যান্টার্নস’-এর কেন্দ্রে রয়েছেন দুজন—হ্যাল জর্ডান ও জন স্টুয়ার্ট। তাঁদের চরিত্রে কাইল চ্যান্ডলার ও অ্যারন পিয়েরের অভিনয় সিরিজটির অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
হ্যাল অভিজ্ঞ, আত্মবিশ্বাসী, কিছুটা বেপরোয়া। আর জন নতুন, নিয়ম মেনে চলতে অভ্যস্ত এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে ভীষণ সচেতন। একজনের অভিজ্ঞতা আর অন্যজনের আদর্শবাদ—দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
ফলে তাঁদের মধ্যে শুধু গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক নয়, তৈরি হয় একধরনের বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের মিশেল।
সমালোচকেরাও বিশেষভাবে চ্যান্ডলার ও পিয়েরের রসায়নের প্রশংসা করেছেন। রটেন টমেটোজের সমালোচকদের সারাংশেও তাঁদের অভিনয় ও পারস্পরিক রসায়নকে সিরিজটির বড় আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই সিরিজটি কেবল কমিকসের চরিত্রের ওপর নির্ভর না করে মানবিক হয়ে উঠেছে।
