
ঢাকা, ৯ জুন – ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাত থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে। এর পাশাপাশি নতুন স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়কে আয়করের আওতামুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে যে আয় হয়, সেটিকেও করমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হতে পারে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুল সংখ্যক ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি নতুন আইটি ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও কর ছাড়ের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করা হতে পারে। এতে প্রাথমিক স্তরের উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর চিন্তাভাবনাও করছে সরকার। বর্তমানে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ওপর কর দিতে হয় না। তবে নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এই সীমা ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে উৎপাদনমুখী শিল্প, প্রযুক্তি ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এসব প্রস্তাবনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজেট উপস্থাপনের সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এনএন/ ৯ জুন ২০২৬



